1. admin@nbcbangla.com : nbcbangla :
শিশু টি কোন এক নর পশুর লালসার শিকার হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশনে টানা তিনদিন
October 28, 2021, 2:56 pm

শিশু টি কোন এক নর পশুর লালসার শিকার হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশনে টানা তিনদিন

  • Update Time : Thursday, July 22, 2021
শিশু
একটি অমানবিক গল্পের সমাপ্তি

শিশু টির নাম রাখা হয়েছিল তনয় সরকার আবদুল্লাহ একটি অমানবিক গল্পের সমাপ্তি

শিশু টির মা কোন এক নর পশুর লালসার শিকার হয়েছিল আবদুল্লাহ’র মা, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ভবঘুরে পাগলী কোন একদিন কোন এক নরপশুর লালসার শিকার হয়ে পাগলী মায়ের গর্ভ আসে আবদুল্লাহ।

আজ থেকে ১৪ দিন আগে ময়মনসিংহ স্টেশনের এককোণে পৃথিবীর আলো দেখে আবদুল্লাহ।

সন্তান প্রসব করেই টানা তিনদিন পড়েছিল পাগলীটা। কোমড়ে ঘা, সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা,অপুষ্টি!

সব মিলিয়ে কাতর হয়ে স্টেশনের এক কোণায় পড়েছিল।

কেউ দেখেছে, কেউ দেখেইনি আবার কেউ দেখে দেখে চলে গেছে নানান উক্তি ব্যয় করে করে।

তিনদিন পর কোন এক সেচ্ছাসেবীর নজরে আসে পাগলীটা। খবর দেয় “হেল্পপ্লাস ফাউন্ডেশন” কে।

খবর পেয়ে স্টেশনে ছুটে যায় সংগঠনের সাফরান আহমেদ, অলক সরকার সহ অন্যান্যরা।

পাগলীকে নতুন কাপড় পড়িয়ে শত চেষ্টা করেও হাসপাতালে নিতে পারেনি।

এদিকে প্রসব করা সন্তানের প্রতি কোন খেয়াল নেই মায়ের। তিনদিন এভাবেই অভুক্ত পড়েছিল শিশুটি।

চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় হেল্পপ্লাসের কর্মীরা শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

হাসপাতালে পরিচয় বিহীন এই শিশুর ভর্তি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। সকল জটিলতার অবসান ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠনের অন্যতম সংগঠক অলক সরকার।

তিনি শিশুটির অভিভাবক হিসেবে নিজের নাম লেখায়।

এ জন্য হাসপাতালে তাকে তাঁর ন্যাশনাল আইডি কার্ড সহ সাংগঠনিক পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পর নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা চলে শিশুটির। দুজন নার্স পুরো ঘটনা জেনে খুব আন্তরিক সেবা দেন শিশুটি বাঁচাতে।

আর অলক! সকাল দুপুর বিকাল রাত যখনই সুযোগ পেয়েছে শিশুটির খোঁজ নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশু টার সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা বিনামূল্যে করে দিয়েছিল। এই ব্যাপারে ডা. Wasim Khan ভালো ভুমিকা রাখেন।

চিকিৎসকের আপ্রাণ চেষ্টা, নার্সদের আন্তরিক সেবা আর অলকের অগাধ ভালোবাসা সব কিছুকে ব্যর্থ করে আজ সকাল আটটায় শিশুটি চলে যায় মহান আল্লাহর দরবারে।

এর ঠিক পাঁচদিন আগে চলে যায় ওর মা। ওর মায়ের লাশ দাফন হয় বেওয়ারিশ হিসেবে।

কিন্তু শিশুটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে হয়নি।

মৃত্যুর পর হেল্পপ্লাস ফাউন্ডেশনের পরিচয়ে এবং ব্যবস্থাপনায় ওর লাশ দুপুর আড়াইটায় মায়ের কবরের পাশেই ভাটিকাশর গোরস্থানে তাকে দাফন হয়।

শিশু মৃত্যুর পর একটি নাম দিতে হয় এবং জানাজা পড়তে হয়।

শিশুটিকে গোসলের আগে সংগঠন সবায় সিদ্ধান্তে বসে কি নাম রাখা যায়?

একেক জন একেক নাম প্রস্তাব করলে সবাই যখন আমার সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেয় তখন সকলের উদ্দেশ্যে আমি বললাম এই শিশুর নাম আমরা রাখতে পারিনা, কারণ কাগজে পত্রে ওর অভিভাবক আছে।

ওর অভিভাবক অলক সরকারের কাছে সাফরানের মাধ্যমে জানতে চাইলাম কি নাম রাখবে এই শিশুর। একটা নাম দিতে হবে আগেরদিন অলক সরকার করোনা পজিটিভ হয়ে গৃহবন্দী।

শিশুটি শেষবারের মত দেখতে চাইছিল সে। আবাগে কান্নাকাটি করছে। আমাদের কঠিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় সে আর ঘর থেকে বের হতে পারেনি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে নিজের নামের সাথে মিল রেখে অলক নাম পাঠালো তনয় সরকার। এই তনয় সরকারের সাথে আমরা সবাই যুক্ত করলাম আবদুল্লাহ।

গোসলের পর জানাজা পড়ানো হয়। জানাজায় ইমামতি করেন Mahadi Hasan Apon।

ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে কোন এক নরপশু লালসা এবং কুৎসিত মানসিকতার কারণে পৃথিবী থেকে চলে গেল দুইটি প্রাণ একজন অজ্ঞাত প্রতিবন্ধী নারী আরেকজন তনয় সরকার আবদুল্লাহ

(সংগৃহীত অমানবিক গল্পের সমাপ্তি )

Please Share This Post in Your Social Media

See More News Of This Category

Site Customized By NewsTech.Com

About Contact Disclaimer Privacy Policy T / C

© All rights reserved Nbc Bangla 2021